বিশ্বজুড়ে চলতি বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস আবারও কমিয়েছে ওপেক। এবার পূর্বাভাস দৈনিক ৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে নামিয়েছে সংস্থাটি। এ নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো পূর্বাভাস কমাল জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোটটি। তবে ২০২৭ সালে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস ছয় গুণের বেশি বাড়ানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ওপেকের সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা দাঁড়াতে পারে দৈনিক ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে। ২০২৭ সালে চাহিদা দৈনিক ২৩ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে। এতে মোট চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে দৈনিক ১০ কোটি ৮১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে।
ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে বিশ্ব তেলবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে চাহিদার পূর্বাভাস কমালেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তুলনায় ওপেক এখনো বাজার নিয়ে বেশি আশাবাদী। আইইএও এ বছর বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদা কমার পূর্বাভাস দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জোট ওইসিডিভুক্ত অঞ্চলগুলোতে জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক ১ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল কমতে পারে। তবে ২০২৭ সালে এ দেশগুলোতে চাহিদা দৈনিক ৪ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ওপেক।
এদিকে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চলতি বছর চীনে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির গতি বেশ ধীর থাকবে। দেশটিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক মাত্র ১০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে। এতে মোট চাহিদা প্রায় ১ কোটি ৬৯ লাখ ব্যারেলে স্থির থাকবে। তবে ২০২৭ সালে দেশটির জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক ৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে।
ভারতে চলতি বছর চাহিদা দৈনিক ৬০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে। ২০২৭ সালে এ প্রবৃদ্ধি বেড়ে দৈনিক ৪ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে। এতে ভারতের মোট তেলের ব্যবহার দাঁড়াবে দৈনিক ৬১ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে।
ওইসিডি বহির্ভূত দেশগুলোতে চলতি বছর সম্মিলিতভাবে জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক ৪ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে। ২০২৭ সালে এ প্রবৃদ্ধি বেড়ে দৈনিক ১৯ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছে ওপেক। চীন, ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোই এ বৃদ্ধির বড় অংশে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।